রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দোকান বা স্টল দেওয়া অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই একটি লাভজনক স্বপ্ন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত হওয়ায় এখানে ব্যবসার সম্ভাবনা থাকে প্রচুর। তবে প্ল্যাটফর্মে দোকান বসানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ রেলের নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। বিনা অনুমতিতে রেলের জমিতে ব্যবসা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বৈধভাবে ব্যবসা করতে হলে আইআরসিটিসি-র টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স পাওয়া বাধ্যতামূলক। নিচে আবেদনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আবেদন প্রক্রিয়া
রেলস্টেশনে স্টল বা দোকান স্থাপনের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের আইআরসিটিসি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://www.ireps.gov.in/-এ নিয়মিত চোখ রাখতে হয়। এই পোর্টালে রেলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্টেশনের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের স্টেশনের জন্য অনলাইন বা অফলাইনে টেন্ডার ডকুমেন্টস ডাউনলোড করে আবেদন করতে পারেন।
টেন্ডার ও বিডিং ধাপ
টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আগ্রহী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। আবেদনের সময় ‘আর্নেস্ট মানি ডিপোজিট’ বা ইএমডি (EMD) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি একটি প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যে ব্যক্তি বা সংস্থা সর্বোচ্চ এবং উপযুক্ত দরপত্র জমা দেন, রেল কর্তৃপক্ষ তাদেরকেই লাইসেন্স প্রদান করে।
খরচ ও ভাড়া
প্ল্যাটফর্মে দোকানের ভাড়া বা খরচ কোনো নির্দিষ্ট অংকের নয়। এটি নির্ভর করে স্টেশনের গুরুত্ব, প্রতিদিন যাত্রীদের যাতায়াতের সংখ্যা, দোকানের অবস্থান এবং দোকানের আকার বা আয়তনের ওপর। সাধারণত একটি ছোট চায়ের স্টল বা খাবারের দোকানের প্রাথমিক খরচ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হতে পারে। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি, সিকিউরিটি ডিপোজিট, মাসিক ভাড়া এবং লাইসেন্স ফি-এর মতো আর্থিক বিষয়গুলো যোগ করতে হয়।
প্রয়োজনীয় নথি
আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে নিজের পরিচয় ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে কিছু নথিপত্র জমা দিতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাংকের সাম্প্রতিক স্টেটমেন্ট এবং বিগত কয়েক বছরের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR)। এছাড়া ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য নথি চাইতে পারে রেল কর্তৃপক্ষ।
যোগ্যতা
প্ল্যাটফর্মে ব্যবসার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর। পাশাপাশি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার গুরুতর ফৌজদারি রেকর্ড থাকা চলবে না।
পরিশেষে, রেলের জমিতে বা প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা আইনত বেআইনি। তাই প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য রেলের অফিসিয়াল টেন্ডার পোর্টাল অনুসরণ করা এবং সঠিক লাইসেন্স সংগ্রহের মাধ্যমেই ব্যবসা শুরু করা উচিত।





