রাজ্যের রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলোর জট কাটাতে আর কালক্ষেপণ করা হবে না। রেলমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে তিনি জেলার জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন—আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে রেল প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পন্ন করতে হবে।
জমি জট কাটাতে কঠোর নির্দেশ: রাজ্যের যে এলাকাগুলোতে এখনও রেল যোগাযোগ পৌঁছায়নি, সেখানে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এদিন বৈঠকে একাধিক রেল প্রকল্পের ফাইল পর্যালোচনা করতে গিয়েই জমি জটের বিষয়টি উঠে আসে। জেলাশাসকদের উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “রেল প্রকল্পের মতো জনমুখী কাজ এতদিন কেন জমি জটের কারণে আটকে থাকল?” প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ভর্ৎসনা করেন জেলাশাসকদের। আগামী এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই রেলের হাতে জমি তুলে দিতে হবে।
পূর্ববর্তী সরকারের দিকে নিশানা: রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও এই বৈঠক শেষে রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের পথে বিগত সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উন্নয়ন যাতে না হয়, তার সমস্ত বন্দোবস্ত করে রেখেছিল পূর্বতন সরকার।” সেই সঙ্গে রেলমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নতুন সরকারের এই সদিচ্ছা বাংলার রেল মানচিত্রকে দ্রুত বদলে দেবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: রাজ্যের যেসব এলাকায় এতদিন রেল পরিষেবা ছিল না, সেখানে নতুন লাইন পাতা এবং স্টেশন তৈরির কাজ শুরু হতে চলেছে। জমি হস্তান্তরের এই বাধা দূর হলে রাজ্যের রেল পরিকাঠামোয় এক অভাবনীয় গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান এবং রেলমন্ত্রকের সঙ্গে এই সমন্বিত উদ্যোগ, রাজ্যের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।





