রমজান মাসের দীর্ঘ এক মাসের কঠোর সিয়াম সাধনা শেষে খুশির ইদে মেতেছে দেশ তথা গোটা বিশ্ব। শনিবার সকাল থেকেই উৎসবের রঙে রঙিন ভারত। রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে তিলোত্তমা কলকাতা— মসজিদে মসজিদে ভোরের আজান আর ইদের নামাজে সামিল হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই পবিত্র দিনে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তবে উৎসবের আবহেও বাংলার রাজনীতিতে ঝরল ঝাঁজালো মেজাজ। কলকাতার রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রেড রোডে সম্প্রীতির মেলা ও রাজনৈতিক বাণ
কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে প্রতি বছরের মতো এবারও ইদের বিশেষ নামাজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি মমতার বক্তব্যে উঠে আসে সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) প্রসঙ্গ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কারো ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। মঞ্চ থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকেও নিশানা করেন তিনি। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিখ্যাত উর্দু কবি রাহাত ইন্দোরির কবিতার পঙতি তুলে ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তুলাধোনা করেন। তাঁদের দাবি, ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও দেশ জুড়ে উৎসব
রাজনীতির লড়াই থাকলেও সৌজন্যে খামতি রাখেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সবাইকে পবিত্র ইদের শুভেচ্ছা। এই দিনটি ভ্রাতৃত্ব বোধ এবং করুণায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক। সকলের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করি।” গত কয়েকদিন ধরে দেশের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে কেনাকাটার যে ধুম ছিল, তার সমাপ্তি ঘটেছে আজ রসনা তৃপ্তিতে। রেড রোড থেকে শুরু করে জামা মসজিদ— কোলাকুলি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্যে ধরা পড়েছে সম্প্রীতির ছবি।
উৎসবের তাল কাটল গ্যাসের অভাব?
দেশ জুড়ে আনন্দের জোয়ার বইলেও সাধারণ মানুষের একাংশের মনে দানা বেঁধেছে ক্ষোভ। রান্নার গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক জায়গাতেই উৎসবের রান্নায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সেই প্রতিকূলতা ভুলে আজ শুধুই মেতে ওঠার দিন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও তাঁর বার্তায় ভারতের চিরাচরিত সংহতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। আকাশে চাঁদের দেখা মেলার পর থেকেই যে উৎসবের শুরু হয়েছিল, তা আজ পূর্ণতা পেল সেমাই আর বিরিয়ানির গন্ধে।