সাফল্যের নতুন শিখরে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন। টিকিট চেকিং থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক রাজস্ব বৃদ্ধি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাওড়া ডিভিশন স্থাপন করেছে এক নতুন মানদণ্ড। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যাত্রীসেবার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও অভাবনীয় গতি পেয়েছে হাওড়া।
নতুন রিটেল চুক্তি ও রাজস্বের নতুন উৎস: রেল সম্পদের সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে হাওড়া স্টেশনে একটি নতুন আধুনিক ৮০ বর্গফুটের রিটেল স্টোর স্থাপনের জন্য ১০ বছরের একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই অভিনব ই-নিলামের মাধ্যমে প্রতি বছর লাইসেন্স ফি বাবদ রেলের ঘরে আসবে ২২.৭০ লক্ষ টাকা। ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বিশাল কাপুর জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি কেবল রাজস্বই বৃদ্ধি করবে না, বরং ব্যস্ত হাওড়া স্টেশনে যাত্রীদের কেনাকাটা ও ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে।
টিকিট আয়: সর্বকালের সেরা রেকর্ড: বিস্ময়কর বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে টিকিট রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও। হাওড়া ডিভিশনের কঠোর টিকিট চেকিং অভিযানের সুফল মিলছে হাতেনাতে:
এপ্রিল ২০২৬: আয় ৪.৪০ কোটি টাকা (২১.৫৫% প্রবৃদ্ধি)।
মে ২০২৬: ৫.৩৫ কোটি টাকার সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড (মে ২০২৫-এর তুলনায় ৫৬.৮৯% প্রবৃদ্ধি)।
প্রথমবারের মতো হাওড়া ডিভিশন কোনো একক মাসে ৫ কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করল। এপ্রিল ও মে মাসের সম্মিলিত আয় ৯.৭৬ কোটি টাকায় পৌঁছানোয় রেলের অন্দরে খুশির হাওয়া।
কী বলছেন রেল কর্তৃপক্ষ? পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, “কঠোর টিকিট চেকিং এবং নতুন রিটেল চুক্তির মতো সৃজনশীল উদ্যোগগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই হাওড়া ডিভিশন এই সাফল্য অর্জন করেছে।”
যাত্রীদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে হাওড়া ডিভিশনের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য ডিভিশনের কাছেও একটি ‘মডেল’ হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





