রাস্তায় ময়লা ফেললেই জরিমানা! শহর পরিষ্কার রাখতে কড়া নির্দেশ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

শহরকে আবর্জনামুক্ত ও ঝকঝকে করে তুলতে এবার একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় যেখানে-সেখানে ময়লা বা বর্জ্য পদার্থ ফেললে নাগরিকদের গুনতে হবে জরিমানা। আসানসোলে একটি নতুন ডাস্টবিন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

মন্ত্রী জানান, শহরবাসীকে সচেতন করতে এবং অভ্যাস বদলের সুযোগ দিতে আগামী তিন মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। তিন মাস পর থেকে আইনের কঠোর প্রয়োগ শুরু হবে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “রাস্তায় ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে আইন আগে থেকেই রয়েছে, নতুন করে কোনো আইন তৈরির প্রয়োজন নেই। শুধু সেই আইনের প্রয়োগ এখন কঠোরভাবে করা হবে। জরিমানার অঙ্ক এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে তা নির্ধারণ করা হবে।”

শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকারের সহায়তায় লঞ্চ করা হয়েছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের উপস্থিতিতে এই অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল। মন্ত্রী জানান, রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার মধ্যে আপাতত পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আসানসোল-সহ ১০টি এলাকায় এই অ্যাপের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

এই অ্যাপের কার্যকারিতা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যবহার করা যাবে। রাস্তায় ময়লা জমে থাকতে দেখলে নাগরিকরা শুধু ছবি তুলে সাবমিট করবেন। অভিযোগ পাওয়ার ঠিক ২ ঘণ্টার মধ্যে পুরনিগমের কর্মী গিয়ে সেই জায়গা পরিষ্কার করতে বাধ্য থাকবেন। সাফাই কর্মীরা কাজ শেষে পরিষ্কার জায়গার ছবি অ্যাপে আপলোড না করলে অভিযোগের উইন্ডো বন্ধ হবে না। এতে কাজে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।”

আসানসোলে চালু হওয়া ‘অ্যাড মাই বিন’ প্রকল্পের প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, এতে সরকারের কোনো আর্থিক খরচ নেই। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে এই আধুনিক ডাস্টবিনগুলো বসানো হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের সাতটি বিধানসভা এলাকায় এগুলি বসানো হবে, যা পরবর্তীতে পুরো পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, বাজার এবং স্কুলের সামনের জনবহুল মোড়গুলোতে এই বিন লাগানো হবে। বিনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার, ফলে পুরনিগমের ওপর বাড়তি কোনো কাজের চাপ পড়বে না।

নাগরিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, “সাফাই কর্মীরা পেটের দায়ে এই কঠিন কাজ করছেন। আমাদের উচিত দলগতভাবে সহযোগিতা করা। আমরা যদি রাস্তায় ময়লা না ফেলি, তবেই শহর পরিষ্কার থাকবে এবং তাঁদের কাজের বোঝাও হালকা হবে।” বর্তমান প্রজন্মের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা এই বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এই উদ্যোগে শহরবাসীর সহযোগিতা ও সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy