রাশিয়ান সেনারাই খাচ্ছে সেনার মাংস! ইউক্রেন যুদ্ধে খাদ্যাভাব নাকি চরম উন্মাদনা?

যুদ্ধ শুধু প্রাণই নেয় না, মানুষের বিবেক এবং মনুষ্যত্বকেও যে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার এক হাড়হিম করা উদাহরণ সামনে এল ইউক্রেন রণক্ষেত্রে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং রসদ সরবরাহে টান পড়ায় রুশ সেনাদের মধ্যে নরমাংস ভক্ষণের (Cannibalism) মতো ভয়াবহ প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

সম্প্রতি ইন্টারসেপ্ট করা বা আড়ি পাতা বেশ কিছু ফোনালাপে উঠে এসেছে এমন সব তথ্য, যা শুনে শিউরে উঠছে গোটা বিশ্ব।

কী জানা যাচ্ছে ইন্টারসেপ্ট কল থেকে?

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (GUR) এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী:

  • সতীর্থকেই ভক্ষণ: ডনবাস অঞ্চলে যুদ্ধরত এক রুশ সেনার অডিও কল ফাঁস হয়েছে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়—খাবার না পেয়ে এক সেনা তার নিজেরই দুই সহযোদ্ধাকে হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়ার চেষ্টা করছিল।

  • ভয়ংকর বর্ণনা: ওই অডিওতে দাবি করা হয়েছে, জনৈক এক রুশ সেনা তার সতীর্থের পা কেটে নিয়ে তা ‘মিট গ্রাইন্ডারে’ দিয়ে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে অন্য সেনারা তাকে খুঁজে পেয়ে হত্যা করে।

  • মানসিক বিপর্যয়: গোয়েন্দাদের দাবি, এটি কেবল ক্ষুধার জ্বালা নয়, বরং দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে সেনাদের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম মানসিক বিকৃতির বহিঃপ্রকাশ।

খাদ্য ও রসদের তীব্র সংকট

যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সময় ডাস্টবিন থেকে পচা খাবার খাওয়া বা নিজের প্রস্রাব খাওয়ার মতো খবরও সামনে এসেছিল। কিন্তু এবার সরাসরি নরমাংস ভক্ষণের দাবি যুদ্ধের ভয়াবহতাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে: ইউক্রেনের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য বরাবরের মতোই এই দাবিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই খবরটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় টক অফ দ্য টাউন। যুদ্ধের ময়দানে সত্যিই কি এমনটা ঘটছে, নাকি এটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ—তা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy