রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর পুতিনের এটিই প্রথম ভারত সফর; কৌশলগত অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করতে উদ্যোগ

চলতি মাসের ৪ এবং ৫ ডিসেম্বর দুদিনের জন্য ভারত সফরে আসতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর ২৩তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, এই সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে বড়মাপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ভারতের জন্য নতুন করে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব।

গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মূল বিষয়:

যুদ্ধের পর প্রথম সফর: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এবং ভারতের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুরের পর এটিই হবে পুতিনের প্রথম ভারত সফর।

এস-৪০০ চুক্তি: আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে ভারতীয় বায়ুসেনাকে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনটি এস-৪০০ রেজিমেন্ট সরবরাহের প্রস্তাবও আলোচনার টেবিলে সামনে আসতে পারে।

অস্ত্রভাণ্ডার: রাশিয়ার এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে যখন ভারত এখনো তার মোট অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রাশিয়ান সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল। যদিও গত এক দশকে অস্ত্র আমদানির হার কমেছে, তবুও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আবারও গতি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৌশলগত স্থিতিশীলতা:

ঐতিহাসিক আস্থা এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা আমদানি কম হওয়া সত্ত্বেও ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গঠনে এখনো রাশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সময়মতো সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হবে। এই সফরের মাধ্যমে রাশিয়া-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy