রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহের ঘাটতি বাংলাকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। বিকল্প হিসেবে সাধারণ মানুষ ও পথের ধারের হোটেলগুলো ফের আঁকড়ে ধরছে কাঠের উনুন। কিন্তু এই ‘সাশ্রয়’ আদতে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনছে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকরা। গত দুই দশকের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের অগ্রগতি এখন কার্যত প্রশ্নের মুখে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পুরুষোত্তম রেড্ডি জানিয়েছেন, জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত সূক্ষ্ম কণা (PM2.5) এবং কার্বন মনোক্সাইড সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট ও সিওপিডি (COPD)-র মতো মারণ রোগ সৃষ্টি করছে। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র ১ কেজি কাঠ পুড়লে প্রায় ২ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়, যা গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। ১০০ কেজি কাঠ পোড়ানো মানে বাতাসে ২০০ কেজি বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে সৌরশক্তি এবং ইন্ডাকশন কুকার। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে তা যেমন পরিবেশবান্ধব হবে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমাবে। এলপিজি সংকটের জেরে যথেচ্ছ গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সরকার ও সাধারণ মানুষকে এখনই পুনর্নবিকরণযোগ্য জ্বালানির দিকে না ঝুঁকলে, এই বায়ুদূষণ অদূর ভবিষ্যতে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।