“রান্নাঘরে আগুন নিভলে, রাস্তায় আগুন জ্বলবে!”— এই তীব্র স্লোগানকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার কলকাতার রাজপথ কাঁপাল প্রদেশ কংগ্রেস। রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজ্যে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কটের প্রতিবাদে এদিন মৌলালি থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে শামিল হওয়া কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের কাঁধে ছিল খালি গ্যাস সিলিন্ডার, যা বর্তমান পরিস্থিতির এক ভয়াবহ প্রতিফলন। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ধর্মতলার বিক্ষোভ সভা থেকে শুভঙ্কর সরকার বলেন, “সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে কেন্দ্র দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে আজ হাহাকার।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সমন্বয় করে গ্যাসের দাম না কমায় এবং জোগান স্বাভাবিক না করে, তবে আগামী সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস। ব্লক স্তর থেকে শুরু করে জেলা সদর— সর্বত্র আইন অমান্য আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে ঘাসফুল শিবিরকে চাপে রাখা হাত শিবির।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, জোগান থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কালোবাজারি করা হচ্ছে। শুভঙ্কর সরকারের হুঁশিয়ারি, “সোমবারের পর থেকে পরিস্থিতি যদি হাতের বাইরে চলে যায়, তবে তার দায় সম্পূর্ণভাবে মোদী ও মমতা সরকারকেই নিতে হবে।” ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে এই গ্যাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের এই আন্দোলন যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।