অন্য রাজ্য থেকে এসে কলকাতায় গা ঢাকা দেওয়া রাজস্থানের একটি খুনের মামলার তিন অভিযুক্তকে সল্টলেক থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একদম সিনেমার মতো কায়দা করে ধাওয়া করে এই দুষ্কৃতীদের ধরে ফেলে পুলিশ। এই ঘটনা কলকাতার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে।
যেভাবে গ্রেফতার হলো অভিযুক্তরা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দুষ্কৃতীরা রাজস্থানের একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিল এবং তারা কলকাতায় আত্মগোপন করে ছিল।
পালানোর চেষ্টা: খবর পেয়ে পুলিশ ফুলবাগান এলাকায় পৌঁছলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। তারা দৌড়ে সল্টলেকের পূর্বাঞ্চলের একটি আবাসনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে।
ধাওয়া: দুষ্কৃতীরা আবাসনের চার তলায় উঠে পড়ে। পুলিশও পিছু নেয়। পরবর্তীতে আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীদের তাড়া খেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে সল্টলেকের ‘বেঙ্গল টেনিস অ্যাকাডেমির’ কাছে পৌঁছায়। সেখান থেকেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। একজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
আতঙ্কিত বাসিন্দারা, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার পরই কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্য রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীরা এসে এই রাজ্যে গা ঢাকা দেওয়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত। ওই আবাসনের এক বাসিন্দা বলেন,
“একজন এসে বলছে ‘চোর আয়া হ্যায়’… ভদ্রলোক আমার থেকে অনেক লম্বা। আমি ওকে দরজা খুলে দিই। উনি চার তলায় উঠে যান। আমি তো ভয়ে আছি। এভাবে কেউ ঘরে ঢুকে পড়ল!”
প্রাক্তন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় পুলিশি ইন্টালিজেন্সের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “নানা ভাবে তারা ট্রেনে-বাসে করে এসে আবাসনে লুকিয়ে থাকছে। জনগণ ও পুলিশের এসটিএফ-এর দলের সাহায্যে পুরো টিমটাকে ধরা হয়েছে। একজন এখনও ধরা পড়েনি। আমার মনে হচ্ছে ইন্টালিজন্স কম ছিল। পুলিশের সঙ্গে সাধারণের যোগাযোগ হয়ত কম ছিল।”