রাজস্থানে পুলিশি হেফাজতে ১১ মৃত্যু! সুপ্রিম কোর্টের চরম তলব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে

রাজস্থানে পুলিশি হেফাজতে পরপর ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের থানাগুলোতে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানো এবং তা তদারকি করার ক্ষেত্রে কেন ঢিলেমি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে সশরীরে তলব করল শীর্ষ আদালত।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, “পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, এটি বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি বড় কলঙ্ক।” রাজস্থানে গত কয়েক মাসে যে হারে লক-আপে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত প্রশ্ন তোলে, কেন ২০২০ সালের নির্দেশ মেনে সমস্ত থানায় এখনো সক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরা ও অডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি।

কেন এই তলব? একটি সংবাদপত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত জানতে পারে, রাজস্থানে গত সাত-আট মাসে অন্তত ১১ জন অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মারা গেছেন। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (Suo Motu) রুজু করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের শুনানিতে আদালত লক্ষ্য করে যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো সিসিটিভি সংক্রান্ত নির্দেশিকা পালনে গড়িমসি করছে। কেন সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে যাচ্ছে বা ক্যামেরা কেন বিকল থাকছে— এই সমস্ত বিষয়ে জবাবদিহি করতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে আগামী শুনানিতে সশরীরে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

কেরল মডেলের উল্লেখ: শুনানি চলাকালীন আদালত কেরল মডেলের উদাহরণ টেনে আনে। কেরলে যেভাবে থানার সিসিটিভি সরাসরি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়, সেই মডেল কেন সারা দেশে চালু করা যাচ্ছে না, তা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করা হয়।

রাজস্থানের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই গুরুতর অভিযোগে এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে সব মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy