কলকাতার বাঘাযতীন এলাকায় বুধবার গভীর রাতে হওয়া শুটআউটের ঘটনায় যত সময় গড়াচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন রাহুল দে নামে এক যুবক এবং গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জিৎ মুখোপাধ্যায়। তবে জিতের আহত হওয়ার খবর সামনে আসতেই তাঁর অতীত কার্যকলাপ নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, জিতের মাথার ওপর রয়েছে প্রভাবশালী ‘রাজনৈতিক দাদাদের’ হাত, আর সেই দাপটেই এলাকায় একচেটিয়া রাজত্ব চালাতেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, জিতের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার মতো একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের খাতায় তাঁর নাম বেশ ওপরের দিকেই থাকলেও প্রতিবারই তিনি ‘প্রভাব খাটিয়ে’ ছাড় পেয়ে যেতেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “ওর অপকর্মের প্রতিবাদ করলে বা পুলিশে অভিযোগ জানালে কাউন্সিলররা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতেন। রাজনৈতিক প্রশ্রয় না থাকলে একজন সাধারণ যুবক এত সাহস পায় না।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে একটি আবাসনের ছাদে রাহুল ও জিৎ যখন মদ্যপান করছিলেন, তখনই দুষ্কৃতীরা হানা দেয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তোলাবাজির টাকা ভাগাভাগি বা পুরনো কোনো বিবাদের জেরে এই হামলা হতে পারে। তবে জিতের পরিবারের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোক হঠাৎ ঢুকে গুলি চালায়। লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এবং পাটুলি থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। নির্বাচনের মুখে খোদ কলকাতায় এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং তাতে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।