তিনি টলিউডের নামী পরিচালক, কমার্শিয়াল সিনেমার ‘হিট মেশিন’। কিন্তু সেই গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে হঠাৎ করে রাজনীতির কাদা-জল মাখা ময়দানে কেন এলেন রাজ চক্রবর্তী? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ‘ম্যাজিক মোমেন্ট’-এর কথা শেয়ার করেছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক। রাজের কথায়, তাঁর রাজনীতিতে আসাটা ছিল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত এবং একটি ফোন কলের ওপর ভিত্তি করে।
সেই সাত সকালের ফোন: রাজ জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল এক বসন্তের সকালে। তখনও তিনি ভাবেননি যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পরিচয় বদলে যাবে। হঠাৎই তাঁর ফোনে ভেসে ওঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নম্বর। রাজ বলেন, “দিদি ফোন করে খুব সহজভাবে জানতে চাইলেন আমি কেমন আছি। তারপর হঠাৎই বললেন, ‘তোর জন্য একটা দায়িত্ব আছে, তুই কি ব্যারাকপুর থেকে লড়বি?'”
অভিষেকের কল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজের মোবাইলে বেজে ওঠে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন। রাজের কথায়, “দিদির ফোনের পরেই অভিষেকের ফোন আসে। ও আমাকে পুরো বিষয়টার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয় এবং ব্যারাকপুরের মতো সরগরম একটা কেন্দ্রের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করে।”
ব্যারাকপুর কেন? রাজ চক্রবর্তী জানান, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় কাজ করাটা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু নেত্রীর ওপর অগাধ বিশ্বাস থেকেই তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। রাজের কথায়, “প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও দিদির সাহস আর অভিষেকের পরিকল্পনা শুনে না বলতে পারিনি। মনে হয়েছিল, মানুষের জন্য কাজ করার এটাই সেরা সুযোগ।”
রূপকথার মতো যাত্রা: পরিচালক থেকে জনপ্রতিনিধি— এই যাত্রাকে রাজ আজও ‘রূপকথা’ মনে করেন। টলিউডের লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগত থেকে বেরিয়ে ব্যারাকপুরের অলিতে গলিতে মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনাটা তাঁর জীবনের এক নতুন অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে রাজ আবারও দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছেন।
রাজনীতির আঙিনায় রাজের এই এন্ট্রি প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ আর নেতৃত্বের ওপর ভরসা থাকলে একজন সাধারণ মানুষও হয়ে উঠতে পারেন জনগণের কণ্ঠস্বর।





