তিলোত্তমার রসুইঘরে এবার অমাবস্যার অন্ধকার! কলকাতা-সহ দেশের বড় শহরগুলোর হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG)-র তীব্র ঘাটতি। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, বহু নামী রেস্তোরাঁ এখন পরিষেবা সচল রাখা নিয়ে ঘোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার মতো খাদ্যরসিকদের শহরে যদি উনুন জ্বলা বন্ধ হয়, তবে তার প্রভাব পড়বে কয়েক লক্ষ মানুষের ওপর।
৫০০০ রেস্তোরাঁয় সঙ্কটের মেঘ তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র কলকাতাতেই প্রায় ৫০০০-এর বেশি ছোট-বড় রেস্তোরাঁ রয়েছে। যার একটি বড় অংশে ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের মজুত ভাণ্ডার তলানিতে ঠেকেছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের পক্ষ থেকে সময়মতো সিলিন্ডার না আসায় মাথায় হাত রেস্তোরাঁ মালিকদের। শুধু কলকাতা নয়, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতেও একই হাহাকার শুরু হয়েছে। বহু জায়গায় চড়া দামে ব্ল্যাকে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
কেন এই ঘাটতি? গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরাসরি কোনও কারণ দর্শানো না হলেও, গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় বিঘ্ন ঘটেছে। আমদানিকৃত এলপিজি-র জোগানে টান পড়া অথবা ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির ফলেই এই বিপর্যয়। ফলে চাহিদা থাকলেও জোগান মিলছে না। রেস্তোরাঁ সংগঠনগুলোর দাবি, যদি দ্রুত এই পরিস্থিতির সমাধান না হয়, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনেক আউটলেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।
পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা যদি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে খাবারের দামে বড়সড় কোপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রান্নার খরচ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই রেস্তোরাঁগুলো তাদের মেনু কার্ডের দাম বাড়িয়ে দেবে। ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা। অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটক— হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল সকলের জন্যই এটি এক বড় দুঃসংবাদ।