কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীদের জন্য জরুরি বার্তা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেরামতির কাজের জন্য আগামী রবিবার, ৩১ মে সকাল ছ’টা থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।
হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স অথরিটি (HRBC) সূত্রে জানা গেছে, সেতুর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুর স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল এবং বেয়ারিং বদল ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এই সময়সীমায় সেতুতে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এমনকি সেতুর সংযোগকারী র্যাম্পগুলিতেও সাধারণ গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিকল্প রুটের বিস্তারিত তালিকা:
কলকাতা পুলিশ ট্র্যাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে যানজট এড়াতে বিকল্প রুটের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে:
পশ্চিমমুখী যানবাহন: এজেসি বোস রোড হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে আসা গাড়িগুলিকে টার্ফ ভিউ ও হেস্টিংস মোড় হয়ে স্ট্র্যান্ড রোড ও হাওড়া ব্রিজের দিকে ডাইভার্ট করা হবে।
কেপি রোড থেকে: বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে মুখ করা গাড়িগুলিকে ১১ ফার্লং গেট থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
খিদিরপুর থেকে: সিজিআর রোড হয়ে পূর্বমুখী গাড়িগুলিকে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে বিকল্প পথে পাঠানো হবে।
ঘোড়া পাস: ওয়াই-পয়েন্ট থেকেও যানবাহনের গতিপথ পরিবর্তন করা হবে।
সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, সেতুর কাজ চলাকালীন শহরের পার্শ্ববর্তী প্রধান রাস্তাগুলোতেও ট্র্যাফিক চাপের পরিমাণ বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত ট্র্যাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, রবিবার সকালে যদি আপনার কোনো জরুরি কাজ না থাকে, তবে এই রুট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিমানবন্দরের যাত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোনো ব্যক্তিদের হাতে পর্যাপ্ত বাড়তি সময় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর আর্জি জানানো হয়েছে। অফিসযাত্রী এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের জন্য হাওড়া ব্রিজ বা অন্যান্য বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন না হতে আগে থেকেই রুট পরিকল্পনা করে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।





