পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রের প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের শেয়ার বাজারে। সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধের আশঙ্কায় লগ্নিকারীদের মধ্যে প্যানিক সেলিং বা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। এর ফলে মাত্র দুটি ট্রেডিং সেশনে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা, যার মধ্যে সোমবার একদিনেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা।
বাজারের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যাচ্ছে একটি পরিসংখ্যান থেকে— সোমবার বাজার চলাকালীন ৮৭৫টি শেয়ার তাদের ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে (52-week low) পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে, মাত্র ৭২টি শেয়ার নিজেদের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করতে পেরেছে। সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকই এদিন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, আইটি এবং অটোমোবাইল সেক্টরের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক ধস নেমেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা লগ্নিকারীদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে সমানে টাকা তুলে নিচ্ছেন। সোমবার বিকেল নাগাদ বিএসই (BSE) তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ একধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। যদি যুদ্ধের উত্তেজনা এখনই প্রশমিত না হয়, তবে আগামী কয়েক দিনে বাজার আরও তলানিতে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এখন ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ (Wait and Watch) নীতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।