কর্পোরেট দুনিয়ায় ডেডলাইন এবং কাজের চাপ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই চাপের মুখে পড়ে একজন নতুন কর্মী যা করলেন, তা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নতুন অফিসে যোগ দেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় বসের সঙ্গে ডেডলাইন নিয়ে তীব্র মতবিরোধের জেরে ইস্তফা দিলেন এক যুবক। কোনো নোটিশ পিরিয়ড বা আগাম বার্তা ছাড়াই তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
সূত্র মারফত জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওই কর্মী একটি বহুজাতিক সংস্থায় জুনিয়র অ্যানালিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। যোগদানের পর থেকেই তাঁর ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন একটি অত্যন্ত কঠিন প্রজেক্টের ডেডলাইন নিয়ে বসের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। বসের দাবি ছিল, অতিরিক্ত সময় কাজ করে সেই রাতেই প্রজেক্ট জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, ওই কর্মীর যুক্তি ছিল, পর্যাপ্ত সময় ও প্রশিক্ষণ ছাড়া এত কম সময়ে নিখুঁত কাজ করা অসম্ভব।
কথাকাটাকাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ওই কর্মী তৎক্ষণাৎ নিজের ডেস্কে ফিরে গিয়ে একটি মাত্র লাইনের ইস্তফাপত্র লিখে বসের টেবিলে দিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান। তিনি স্পষ্ট জানান, মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন। এই ঘটনাটি লিংকডইন এবং এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একদল বলছেন, আজকের প্রজন্মের ধৈর্য কম; অন্যদলের মতে, ‘টক্সিক ওয়ার্ক কালচার’ বা বিষাক্ত কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে এটাই সঠিক প্রতিবাদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কর্মীরা মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্মজীবনের ভারসাম্যের (Work-Life Balance) ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে পুরনো ধাঁচের কঠোর কর্পোরেট শাসন আর সব জায়গায় কাজ করছে না। ১৫ দিনের মাথায় এই পদত্যাগ করপোরেট সংস্কৃতির অন্ধকার দিকটিকেই আবারও সামনে এনে দিল।