পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সাত সপ্তাহের দীর্ঘ সংঘাত এবার চরম রূপ নিতে চলেছে। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা। বর্তমান ও প্রাক্তন মার্কিন সেনা আধিকারিকদের সূত্র দিয়ে ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এইচডব্লিউ বুশ-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজে চড়ে প্রায় ৬০০০ সেনা ওই অঞ্চলের দিকে রওনা দিয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের শেষেই আরও ৪২০০ সেনা সেখানে পৌঁছবে।
চাপে ফেলার কৌশল না কি যুদ্ধের প্রস্তুতি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসা এবং আমেরিকার শর্ত মেনে সংঘর্ষবিরতিতে বাধ্য করা। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর অর্থ হলো, ইরান যদি নতিস্বীকার না করে তবে স্থলপথেও সরাসরি অভিযান চালানোর রাস্তা খোলা রাখলেন ট্রাম্প।
অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ
কেবল সেনা মোতায়েনই নয়, ইরানকে ভাতে মারার কৌশলও নিয়েছে ওয়াশিংটন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের বিভিন্ন বন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ অবরুদ্ধ করতে শুরু করেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেল রফতানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে।
ট্রাম্পের জোড়া লক্ষ্য
মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসনের পেছনে মূলত দুটি বড় লক্ষ্য কাজ করছে। প্রথমত, ইরানকে তাদের পরমাণু প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বাধ্য করা। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা। তেহরান এই প্রবল চাপের মুখে মাথা নোয়াবে নাকি পাল্টা আঘাত হানবে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।





