সাধারণত যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতা শুরু হলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হয়। কিন্তু ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র! আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে সোনার দামে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বড়সড় পতন। ভারতের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে স্পষ্ট। মধ্যবিত্তের নাগালে কি তবে আসতে চলেছে সোনা?
কেন এই অস্বাভাবিক পতন? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আবহেও সোনার দাম কমার পেছনে রয়েছে কয়েকটি বিশেষ কারণ:
ডলারের দাপট: যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা তুঙ্গে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়ার ফলে সোনা থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন বড় বড় বিনিয়োগকারীরা।
বিক্রির চাপ: যুদ্ধের খরচ সামলাতে অনেক দেশ বা বড় সংস্থা তাদের সোনার রিজার্ভ বাজারে ছাড়তে পারে, এমন গুজবেও দাম কমছে।
ভারতীয় বাজারে বর্তমান চিত্র কলকাতার বাজারেও ১০ গ্রাম সোনার দামে কয়েক হাজার টাকার হেরফের দেখা গিয়েছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সোনার দর অনেকটাই নিম্নমুখী। বিয়েবাড়ির মরসুমের আগে এই পতন সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটালেও, যাঁরা বেশি দামে সোনা কিনে রেখেছিলেন তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
সামনে কি আরও কমবে? বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী: ১. স্বল্পমেয়াদী পতন: যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সাময়িকভাবে সোনার দাম আরও ৫-৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ২. সতর্কবার্তা: তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে দাম আবার হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য টিপস: “সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে ধাপে ধাপে কিনতে পারেন। একবারে সব টাকা বিনিয়োগ না করে বাজারের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখুন।”





