যুদ্ধের কোপে ট্রাম্পের ভোলবদল! ইরানকে শায়েস্তা করতে পুতিনের তেলের শরণাপন্ন আমেরিকা?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের দাপটে বিশ্ববাজারে তেলের আগুন নেভাতে বড়সড় নীতি বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়াকে চাপে রাখতে আমেরিকা এতদিন তেলের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল, সেই রাশিয়ার তেল কেনাতেই এখন ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একটি বিশেষ লাইসেন্স জারি করে জানিয়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সমুদ্রপথে থাকা রুশ তেল ও জ্বালানি পণ্য কেনায় আর কোনো বাধা থাকবে না।

আসলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান রণংদেহি মেজাজে ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই হয়। ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুদ্ধ না থামলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছে যাবে। এই চাপের মুখে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। ঘরোয়া রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতি সামাল দিতেই তাই পুতিনের তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরানোর পথে হাঁটলেন তিনি।

প্রতিরক্ষা সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এটি একটি ‘স্বল্পমেয়াদী এবং সুনির্দিষ্ট’ পদক্ষেপ। মূলত মাঝসমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল যাতে বাজারে আসতে পারে এবং জোগান স্বাভাবিক হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে ভারতের মতো দেশকেও রুশ তেল কেনায় ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় মিত্ররা। তাদের দাবি, এতে পুতিনের ‘ওয়ার চেস্ট’ বা যুদ্ধের তহবিলই শক্তিশালী হবে। তবে ট্রাম্পের সাফ কথা, “ইরানি সন্ত্রাস রুখতে এবং তেলের দাম কমাতে এই পদক্ষেপ অনিবার্য ছিল।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy