আধুনিক রণক্ষেত্রে এখন ট্যাঙ্ক বা গোলন্দাজ বাহিনীর চেয়েও বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে ছোট ছোট ড্রোন। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বের সামরিক শক্তিগুলো বুঝতে পেরেছে যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে ড্রোননির্ভর। এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই ভারত। ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘ড্রোন ওয়ারিয়র’ বা ড্রোন যোদ্ধা তৈরির।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় সেনার প্রতিটি স্তরে ড্রোনের ব্যবহার এবং পরিচালনা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির চালু করা হয়েছে। এই নতুন কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো পদাতিক বাহিনীকে আকাশপথে এক শক্তিশালী ঢাল প্রদান করা। এখন আর কেবল গোয়েন্দাগিরি নয়, বরং বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন দিয়ে সরাসরি শত্রুর আস্তানায় নিখুঁত হামলা চালানোই এই ড্রোন যোদ্ধাদের প্রধান লক্ষ্য।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, রসদ সরবরাহ এবং আক্রমণ—এই তিন ক্ষেত্রকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড়ি সীমান্ত বা দুর্গম এলএসি (LAC)-তে যেখানে পৌঁছানো কঠিন, সেখানে ড্রোন হয়ে উঠবে সেনার চোখ ও হাত। ‘আই ইন দ্য স্কাই’ প্রকল্পের অধীনে সেনার তরুণ জওয়ানদের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিতে পারদর্শী করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধের ময়দানে ঝুঁকি কমবে এবং সাফল্যের হার কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ড্রোনের এই যুগান্তকারী পরিবর্তন ভারতীয় সেনাকে বিশ্বমঞ্চে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করছে।