আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু মিসাইল বা গোলাবারুদ নয়, প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। এবার সেই ‘ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ বা অদৃশ্য যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত। ভারতীয় সেনার শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দেশের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর সঙ্গে ১,৪৭৬ কোটি টাকার এক মেগা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি করা হবে ৫টি অত্যন্ত আধুনিক এবং শক্তিশালী ‘গ্রাউন্ড-বেসড মোবাইল ইলেকট্রনিক সিস্টেম’ (GBMES)।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, নতুন দিল্লির কর্তব্য ভবনে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং-এর উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধকালীন সিস্টেমটির নকশা প্রস্তুত করেছে ডিআরডিও (DRDO)-র হায়দরাবাদ ল্যাব এবং এটি তৈরি করবে বিইএল (BEL)। পুরোপুরি আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তৈরি এই সিস্টেমে অন্তত ৭২ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে।
কী এই ‘মোবাইল ইলেকট্রনিক সিস্টেম’ এবং কেন এটি ভারতীয় সেনার গেমচেঞ্জার?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সমকালীন যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোন, দূরপাল্লার মিসাইল এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশনের দাপট সবচেয়ে বেশি। এই নতুন গ্রাউন্ড-বেসড মোবাইল সিস্টেমটি মূলত শত্রুর এই সমস্ত প্রযুক্তিকে অকেজো করার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
ড্রোন ও ইউএভি (UAV) ধ্বংস: সীমান্তে নজরদারি চালানো শত্রু ড্রোন বা সুইসাইড ড্রোনের কন্ট্রোল লিঙ্ক জ্যাম করে দিয়ে সেগুলিকে মাঝ আকাশেই দিকভ্রান্ত বা ক্র্যাশ করিয়ে দিতে সক্ষম এই সিস্টেম। একে সামরিক ভাষায় ‘সফট কিল’ বলা হয়।
রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ করা: যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর রাডার সিগন্যালকে আগে থেকেই ডিটেক্ট করে সেটিকে জ্যাম করে দিতে পারে এই প্রযুক্তি। এর ফলে শত্রুপক্ষ ভারতের কোনো যুদ্ধবিমান বা সেনার অবস্থান ধরতে পারবে না।
গতিশীল পরিকাঠামো: সাধারণ রাডার বা জ্যামার এক জায়গায় স্থির থাকে, কিন্তু এই সিস্টেমটি বড় বড় সামরিক যানের ওপর মাউন্ট করা থাকবে। ফলে ফ্রন্টলাইন বা যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় জওয়ানরা যেখানেই মুভ করবেন, এই মোবাইল সিস্টেমও তাঁদের সুরক্ষায় সাথে সাথে চলতে পারবে।
সেনা সূত্রে খবর, এই অত্যাধুনিক ৫টি মোবাইল ইলেকট্রনিক সিস্টেম ভারতের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা হবে। যেখানে প্রায়শই ড্রোন অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় শত্রুপক্ষ। ১,৪৭৬ কোটি টাকার এই মেগা চুক্তি যেমন ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রকে বুস্ট করবে, ঠিক তেমনই বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতীয় সেনাকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে।





