সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের পরিবারে নেমে এল এক অপূরণীয় শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের দ্বিতীয় পুত্র এবং বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদবের স্বামী প্রতীক যাদব বুধবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তবে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে দানা বাঁধছে একাধিক রহস্য। লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালের ডিরেক্টর থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠ সূত্রের চাঞ্চল্যকর দাবি—মৃত্যুর কারণ হতে পারে ‘বিষক্রিয়া’।
ভোরের বিভীষিকা: কী ঘটেছিল বুধবার সকালে?
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার ভোরবেলায় লখনউয়ের বাসভবনের রান্নাঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ৩৮ বছর বয়সী প্রতীককে। ভোর ৫টা নাগাদ খবর পেয়ে চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক থাকায় তড়িঘড়ি তাঁকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. জি.পি. গুপ্তা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রতীক যাদবের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ডিরেক্টর ডা. জি.পি. গুপ্তা একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এটি ‘ফুড পয়জনিং’ (খাদ্য বিষক্রিয়া) নাকি তিনি নিজে কিছু খেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ডাক্তারদের একটি বিশেষ প্যানেল এই কাজ করছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসতে তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে।
অসুস্থতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সূত্রের খবর, প্রতীক গত কয়েক দিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে লখনউয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেই সময় বড় দাদা অখিলেশ যাদব তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সামান্য সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলেও মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়। যদিও অখিলেশ যাদব রাজনীতিতে সক্রিয়, প্রতীক নিজেকে সবসময় লাইমলাইট থেকে দূরে রাখতেন। তবে তাঁর স্ত্রী অপর্ণা যাদব বর্তমানে বিজেপির এক প্রভাবশালী নেত্রী। বুধবার যখন এই ঘটনা ঘটে, অপর্ণা তখন কর্মসূত্রে দিল্লিতে ছিলেন। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি লখনউয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
অখিলেশ ও প্রতীকের অমলিন সম্পর্ক
প্রতীক যাদব ছিলেন মুলায়ম সিং যাদবের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার সন্তান। অখিলেশ যাদবের সঙ্গে প্রতীকের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। অখিলেশ তাঁর ছোট ভাইকে খুব স্নেহ করতেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও পরিবারের বন্ধন ছিল অটুট। প্রতীকের অকাল প্রয়াণে সমাজবাদী পার্টি এবং যাদব পরিবারের অনুগামীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সিভিল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দেহটি তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।





