লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী বা যুবশ্রীর পর এবার বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় চমক নিয়ে এল রাজ্য সরকার। সদ্য চালু হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় মাসে ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এবার চাকরির সুযোগও দেবে মমতা সরকার। বৃহস্পতিবার মাথাভাঙার নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা: ভোটের মুখে যুব সম্প্রদায়ের মন জয়ে বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
“যুবসাথীতে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের শুধু ১৫০০ টাকা দেওয়াই নয়, তাঁদের চাকরির দিকটাও আমরা দেখব। যতদিন না তাঁরা স্থায়ী কোনো কাজ পাচ্ছেন, ততদিন এই আর্থিক সহায়তা চালু থাকবে।”
তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যুবসাথী প্রকল্প কেবল একটি ভাতা নয়, বরং এটি কর্মসংস্থানের একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। যাদের এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে দেরি হচ্ছে, তাঁরাও দ্রুত এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় বার্তা: মাথাভাঙার পর পিংলার জনসভা থেকেও আমজনতার উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে বিরোধীদের আশঙ্কার জবাব দিয়ে তিনি সাফ জানান, এই প্রকল্প চিরকাল চলবে। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সারাজীবন থাকবে। মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে থাকুন।” এছাড়া স্বাস্থ্যসাথী, সাইকেল প্রদান, স্মার্টফোন এবং মিড-ডে মিলের মতো পরিষেবাগুলোও যে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে, সেই প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
যুবসাথী কেন এত জনপ্রিয়? চলতি বছরেই চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কয়েক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা ঢুকে যাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে বিপুল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রী এর সঙ্গে ‘কর্মসংস্থান’ জুড়ে দেওয়ায় এই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা কয়েক গুণ বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভোটের ময়দানে বড় প্রভাব: নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেকারত্ব যখন অন্যতম প্রধান ইস্যু, তখন ‘ভাতা প্লাস চাকরি’র এই ঘোষণা তৃণমূলের জন্য বড় হাতিয়ার হতে পারে। এখন দেখার, ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলে বাংলার যুবশক্তি কার পাশে দাঁড়ায়।





