মাছ ধরতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলে অপেক্ষায় থাকার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের কাছে এখন জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম হয়ে উঠেছে ‘আলাদিনের প্রদীপ’। আগে মৎস্যজীবীরা কেবল ঢেউ আর বাতাসের গতি দেখে আন্দাজ করতেন কোথায় মাছের ঝাঁক থাকতে পারে। কিন্তু এখন উন্নত জিপিএস এবং স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহারের ফলে তাঁরা নিখুঁতভাবে জানতে পারছেন ঠিক কোন জায়গায় জাল ফেললে নৌকা মাছে ভরে উঠবে।
এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আসলে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা এবং ক্লোরোফিলের উপস্থিতি বিচার করে স্যাটেলাইট থেকে তথ্য পাঠানো হয়। জিপিএস যন্ত্রের মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা সেই ‘পোটেনশিয়াল ফিশিং জোন’ বা মাছ পাওয়ার সম্ভাব্য এলাকাগুলো চিহ্নিত করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমছে, তেমনই অনেকটা সময় বেঁচে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, গভীর সমুদ্রে দিক হারিয়ে ফেলার ভয় থেকেও মুক্তি দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার পথও বাতলে দিচ্ছে জিপিএস। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মৎস্যজীবীদের জীবন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক।