রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই উত্তপ্ত কলকাতার রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা সভার দিনেই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার উত্তর কলকাতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ এবং ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ বলে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ঠিক আগে মন্ত্রীর বাড়িতে এই ধরণের হামলা আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে আঙুল তুলছে বলে দাবি শাসক শিবিরের।
ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, আজ যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় নির্বাচনী জনসভা করছেন, ঠিক সেই সময় একদল দুষ্কৃতী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে চড়াও হয়। মন্ত্রীর বাড়ির গেটে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত কর্মীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার সময় মন্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না, তবে এই হামলায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত পুলিশ বাহিনী পৌঁছায় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর একটি বিবৃতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি যখনই বুঝতে পারে তারা মানুষের মন জয় করতে পারছে না, তখনই হিংসার আশ্রয় নেয়। প্রধানমন্ত্রীর সভার দিনে একজন মহিলা মন্ত্রীর বাড়িতে এই ধরণের হামলা প্রমাণ করে বিজেপি বাংলায় কতটা অস্থিরতা তৈরি করতে চায়। এই জঘন্য কাজের আমরা শেষ দেখে ছাড়ব। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বিজেপি-র পাল্টা প্রতিক্রিয়া: অন্যদিকে, বিজেপি-র পক্ষ থেকে এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি তৃণমূলের অন্তর্কলহের ফল। মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তৃণমূল নিজেরাই এই নাটক সাজিয়েছে। তবে উত্তর কলকাতার এই ঘটনায় দুই পক্ষের রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। ১ এপ্রিলের নির্বাচনের আগে এই ধরণের ঘটনা বুথে বুথে উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলে।