বিশ্বের খাদ্য বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে এবার ইরানের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় এবার ভারতে উৎপন্ন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল, পৌঁছাতে চলেছে ইরানে। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং একে ভারতের ‘মানবিক সাহায্য’ ও ‘কৌশলগত কূটনীতির’ এক বড় চাল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ? সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদক দেশ। দেশে এই মুহূর্তে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এই উদ্বৃত্ত চালকে কাজে লাগিয়ে ভারত দ্বিমুখী লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে:
মানবিক কূটনীতি: ইরান বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্য আমদানিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে চাল পাঠিয়ে ভারত প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা প্রকৃত অর্থেই দক্ষিণ এশিয়ার একটি দায়িত্বশীল শক্তি।
কৌশলগত সম্পর্ক: চাবাহার বন্দর এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ‘চাল কূটনীতি’র মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে দিল্লির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
চাল রপ্তানির প্রভাব: ভারত বর্তমানে বাসমতী এবং নন-বাসমতী—উভয় প্রকার চাল রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ইরানের বাজারে ভারতীয় চালের কদর দীর্ঘদিনের। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে: ১. কৃষকদের লাভ: দেশের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন এবং রপ্তানি বাড়বে। ২. বৈদেশিক মুদ্রা: বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কোষাগারে গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা আসবে।
উপসংহার: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত যেভাবে নিজের উদ্বৃত্ত শস্য দিয়ে বন্ধু দেশগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে ভারতের পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করছে। ইরানের পাতে ভারতীয় চাল কেবল খিদে মেটাবে না, বরং ভারত-ইরান বন্ধুত্বের স্বাদকেও আরও বাড়িয়ে তুলবে।





