২০২৬-এর বঙ্গ নির্বাচনে উত্তাপ এখন তুঙ্গে। রবিবাসরীয় প্রচারে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরবঙ্গ মাতাতে শিলিগুড়িতে পা রাখলেন, তখন সবার নজর কেড়ে নিল এক অন্যরকম দৃশ্য। মোদী দর্শনে মাথাভাঙা থেকে কয়েকশো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাসমেলা প্রাঙ্গণে সশরীরে হাজির প্রফুল্ল রায়। তবে তিনি একা নন, সঙ্গে নিয়ে এসেছেন তাঁর নিজের হাতে গড়া আস্ত এক ‘মোদী ধাম’!
কী এই ‘মোদী ধাম’? মাথাভাঙার বাসিন্দা প্রফুল্ল রায়ের কাছে নরেন্দ্র মোদী কেবল দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, বরং একজন ‘দেবতুল্য’ ব্যক্তিত্ব। সেই ভক্তি থেকেই তিনি রাসমেলা প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ কাঠামো বা প্রদর্শনী তৈরি করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘মোদী ধাম’। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ছবি এবং তাঁর জীবনের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রফুল্লর দীর্ঘ প্রতীক্ষা: রবিবারের কড়া রোদেও প্রফুল্লর উৎসাহে একবিন্দু ভাটা পড়েনি। তাঁর কথায়, “মোদীজিকে একবার সামনাসামনি দেখব বলে কতদিন ধরে অপেক্ষা করছি। তিনি গরিবের মসিহা। তাই তাঁর সম্মানে এই ‘মোদী ধাম’ বানিয়েছি।” এই বৃদ্ধের এমন নমো-ভক্তি দেখে হতবাক উপস্থিত অন্যান্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও।
উত্তরবঙ্গে পদ্ম-প্রচারের ঝড়: অমিত শাহ থেকে জেপি নাড্ডা— বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন ঘরবাড়ি ভুলে বাংলায় ঘাঁটি গেড়েছেন। রবিবারের সভায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে যে জোয়ার এসেছে, প্রফুল্লর মতো সাধারণ মানুষের এই আবেগ তাকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।
পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি: নির্বাচনী লড়াইয়ে কে জিতবে তা বলবে ভবিষ্যৎ, কিন্তু প্রফুল্ল রায়ের এই ‘মোদী ধাম’ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বাংলার প্রান্তিক এলাকাগুলোতেও মোদী ম্যাজিক কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই ব্যক্তিগত আবেগ কি ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
এক নজরে: উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল মোদীর ভাষণ নয়, বরং প্রফুল্লর সেই ‘মোদী ধাম’।





