বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। একদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের রেশ কাটেনি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সামনে প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই রাজধানী দিল্লিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। যুদ্ধের এই আবহে দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে— ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সুরক্ষা। যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে ওঠানামা করছে, তাতে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত দেশের কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার এবং সাধারণ মানুষের ওপর তেলের দামের প্রভাব নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করেছেন। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ আমদানি করে, তাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরাসরি ভারতের পকেটে টান দিতে পারে।
অন্যদিকে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা মূলত কূটনীতি এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে। যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারকাজ বা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এদিনের বৈঠকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান কী হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর এই যুদ্ধের কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বৈঠকের পর ভারত সরকার বড় কোনো ঘোষণা করতে পারে। সেটি কি তেলের দাম কমানোর কোনো মাস্টারপ্ল্যান, নাকি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কোনো নতুন মোড়? এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক সাধারণ মানুষের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার কি আগেভাগেই কোনো বড় বিপদের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি সারছে? এখন সবার নজর সাউথ ব্লকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।