প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই এবার বড় পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি কনভয় বা সফরসঙ্গী গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ কার্যকর হতে চলেছে। মূলত জ্বালানি সাশ্রয় এবং ভিআইপি সংস্কৃতির প্রভাব কমাতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিজে তাঁর সাম্প্রতিক গুজরাত ও অসম সফরে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক গাড়ি নিয়ে কনভয় পরিচালনা করে দেশবাসীর কাছে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোর যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা এবার নিজের ব্যক্তিগত প্রশাসনিক জীবনেও কার্যকর করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রোটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই গাড়ি যেন তাঁর কনভয়ে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি গাড়িও যাতে ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার থেকেই কলকাতার রাস্তায় এবং জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ছোট কনভয়’ দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের হাতে একটি বিশেষ নির্দেশিকা তুলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জ্বালানি ব্যবহারে সংযম দেখানোর আর্জি জানানো হয়েছিল। সেই বার্তা পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি নবান্নে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরে এই সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে কনভয়ের গাড়ি সংখ্যা কমলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিন্দুমাত্র আপস করা হচ্ছে না বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। সমস্ত বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং এসপিজি-র সমতুল্য রাজ্য পুলিশি নিয়ম আগের মতোই বলবৎ থাকছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে যেমন একদিকে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধাও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।





