দিল্লির দরবারে মোদি সরকার ৩.০-এর প্রত্যাবর্তন হোক বা বাংলায় পরিবর্তনের নতুন ঢেউ— শিল্পমহলের কাছে দিনটি ছিল আবেগ ও প্রত্যাশার এক সন্ধিক্ষণ। আর সেই বিশেষ মুহূর্তেই নজর কাড়লেন বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তিনি। তাঁর গলায় শোনা গেল সেই পরিচিত স্লোগান— “মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।”
আবেগে ভাসলেন শিল্পপতি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর তাঁর অগাধ ভরসা রয়েছে। ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ এবং শিল্পায়নের যে গতি মোদি সরকার শুরু করেছে, তা আগামী দিনে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। এই পরিবর্তনের আবহে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি, তাঁর শরীরী ভাষা এবং বক্তব্যে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে দেশ গড়ার নতুন উদ্দীপনা।
বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত স্রেফ আবেগ নয়, শিল্পপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে আগামীর উন্নয়নের রূপরেখা। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা সরাসরি বলেন, “আমার বিশ্বাস আছে, বিজেপির নেতৃত্বে দেশে প্রচুর বিনিয়োগ হবে।” শিল্পপতিদের মতে, স্থিতিশীল সরকার এবং ধারাবাহিক নীতি থাকলে লগ্নিকারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এই ইতিবাচক বার্তা বাংলার শিল্প মহলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাঁর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই স্বস্তি শিল্পমহলে? গত কয়েক বছরে একাধিক ক্ষেত্রে সংস্কার এনেছে কেন্দ্র। শিল্পপতিদের মতে, ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসা করার পরিবেশ সহজতর হওয়ায় বড় বড় সংস্থাগুলি নতুন করে লগ্নির সাহস পাচ্ছে। গোয়েঙ্কার মতো প্রথম সারির শিল্পপতি যখন প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরকারের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন, তখন তা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্যই এক বড় গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে।
শপথ অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল। অনেকেই বলছেন, শিল্পপতির এই ‘ইমোশনাল’ হওয়া আসলে দেশের আগামী উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাসের প্রতিফলন।





