মালদহের মোথাবাড়ি এবং কালিয়াচক-২ ব্লকে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা ও নিগ্রহের ঘটনায় উত্তেজনা যেন কমছেই না। এই ঘটনার কথিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে নিয়ে আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে। একদিকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) তাঁকে হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘ জেরার দাবি তুলেছে, অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি— তাঁর মক্কেলকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
আদালতে কী সওয়াল-জবাব চলল? শুনানি চলাকালীন মোফাক্কেরুলের আইনজীবী দাবি করেন, মোফাক্কেরুল সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাঁর উদ্দেশ্য হিংসা ছড়ানো ছিল না। বরং তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে এবং প্রশাসনের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতেই সেখানে গিয়েছিলেন। আইনজীবীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভকে ভিন্ন খাতে বইয়ে দিতেই মোফাক্কেরুলকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে।
NIA-র কড়া অবস্থান: পাল্টা যুক্তিতে NIA আদালতকে জানায়, বিচারকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা এবং তাঁদের কনভয়ে হামলা চালানো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে বড় কোনো চক্রান্ত বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা জানতে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে মুখোমুখি জেরা করা একান্ত প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া কিছু ডিজিটাল তথ্য এবং সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী মোফাক্কেরুলের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহজনক।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা জেরা ও অবরোধের মুখে পড়তে হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় NIA। এর আগে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
আগামী ১৭ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ততদিন পর্যন্ত মোফাক্কেরুল জেল হেফাজতেই থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে আদালত NIA-র আবেদনের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।





