মেঘালয় হানিমুন মার্ডার: জেল থেকে ছাড়া পেলেও ঠাঁই নেই বাপের বাড়িতে, সোনমের জামিনে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজার পরিবার!

মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। এবার সেই রহস্যময় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম রঘুবংশীকে জামিন দিল আদালত। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে স্বস্তি পেলেও, পরিবারের কাছে তিনি এখন ব্রাত্য। অভিযুক্ত বোনকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে সাফ মানা করে দিয়েছেন তাঁর নিজের দাদা গোবিন্দ। এমনকি সোনম বাড়িতে ফিরলে তিনি নিজে ঘর ছাড়ার চরম হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।

কী ঘটেছিল মেঘালয়ে? গত বছর মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় রাজা রঘুবংশীর। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ তাঁর স্ত্রী সোনমকে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করে। তবে মঙ্গলবার মেঘালয়ের একটি স্থানীয় আদালত পুলিশি গ্রেফতারির পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ দেখিয়ে সোনমের জামিন মঞ্জুর করেন।

ভাইয়ের বিস্ফোরক বয়ান: জামিনের আদেশের পর থেকে পরিবারের মধ্যেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোনমের দাদা গোবিন্দ সংবাদসংস্থাকে স্পষ্ট জানান, “সোনমকে আমরা বাড়িতে রাখব না, এটা অসম্ভব। জেলেও ওর সাথে দেখা করেছি শুধু কাগজপত্রের কাজের জন্য।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাবা-মা যদি ওকে বাড়িতে আশ্রয় দেন, তবে আমিই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। রাজার পরিবারের এখন উচিত হাইকোর্টে যাওয়া।”

সিবিআই তদন্তের দাবি নিহতের পরিবারের: ছেলের অকাল মৃত্যু এবং অভিযুক্ত বৌমার জামিন পাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মা উমা রঘুবংশী। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় অপরাধ করেও সোনম কীভাবে মুক্তি পেল? আমরা সিবিআই তদন্ত চাই।” পুলিশের তদন্তে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওপর ভরসা রাখছে নিহতের পরিবার।

পুলিশের অবস্থান: জামিন মিললেও বিষয়টি নিয়ে পিছু হটছে না পুলিশ। পূর্ব খাসি হিলসের পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানিয়েছেন, “আমরা আদালতের রায়কে সম্মান করি। তবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে। সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের শাস্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

মেঘালয় থেকে শুরু হওয়া এই মর্মান্তিক পরিণতির জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy