মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। গত ২৮ জানুয়ারি বারামতীর কাছে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এনসিপি (NCP) প্রধান। সেই দুর্ঘটনার রহস্য এবং ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব নিয়ে যখন নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই তাঁর জীবনের শেষ ফোন কলের অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে আনল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ঠিক কী কথা হয়েছিল অজিত পাওয়ারের?
অডিওতে ঐক্যের ডাক: দলের সদস্য শ্রীজিত পাওয়ারের সঙ্গে সেই অন্তিম কথোপকথনে মহারাষ্ট্রের প্রিয় ‘দাদা’-র গলায় শোনা গিয়েছে সম্প্রীতির বার্তা। শ্রীজিত জানান, তিনি দাদাকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন নেটওয়ার্ক কভারেজে আসার পর কথা বলার জন্য। ফোন আসতেই অজিত পাওয়ার বলেন, “সব ধর্ম ও জাতিকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।” দল যে আদর্শে বিশ্বাস করে, তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি যে সেই আদর্শেই অবিচল ছিলেন, তা প্রমাণ করতেই এই অডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
বারামতী থেকেই শুরু, সেখানেই ইতি: ১৯৯১ সালে যে বারামতী থেকে সাংসদ হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সেই মাটিতেই শেষ হলো জীবনের যাত্রা। ভোট প্রচারে যাওয়ার সময় তাঁর বিমানটি ভেঙে পড়ে। ইতিমধ্যেই তাঁর শেষকৃত্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস ও শরদ পাওয়ারের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রের মাঝে তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে।
ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ও শরদ পাওয়ারের অবস্থান: অজিত পাওয়ারের মৃত্যু নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পর রাজনৈতিক পারদ চড়লেও, কাকা শরদ পাওয়ার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা মাত্র। এনসিপি-র দাবি, এই অডিও মহারাষ্ট্রের মানুষকে বুঝতে সাহায্য করবে যে তাঁদের প্রিয় নেতার শেষ ভাবনা কী ছিল।