ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম এবং জালিয়াতির অভিযোগে বিদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের চারজন পদস্থ আধিকারিক। এই ঘটনায় দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। শনিবার দিল্লির সদর দপ্তরে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমিশনের কড়া নির্দেশ ও ডেডলাইন: মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন তাঁর ‘অসহযোগিতা’ এবং ‘নির্দেশ অমান্য’ করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বৈঠকের নির্যাস হলো:
-
১৭ই ফেব্রুয়ারি ডেডলাইন: আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (ATR) জমা দিতে হবে।
-
FIR ও সাসপেনশন: বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় ভুয়া নাম নথিভুক্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে FIR দায়ের এবং তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ পুনর্বহাল রাখা হয়েছে।
-
তদন্তে অসহযোগিতা: এর আগে নবান্ন থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই আধিকারিকদের অপরাধ এতটাও গুরুতর নয় যে FIR করতে হবে। কিন্তু কমিশন সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, সরকারি নথিতে কারচুপি কোনোভাবেই লঘু অপরাধ নয়।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকেই এই ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় ১২৭ জন ভুয়া ভোটার ঢোকানোর প্রমাণ পেয়েছিল কমিশন। বারংবার নবান্নকে চিঠি দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টিতে এবার ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যসচিবকে জবাবদিহি করতে হলো। কমিশনের বক্তব্য, স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে এই ধরণের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আধিকারিকদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা বাধ্যতামূলক।
নবান্নের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে আধিকারিকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে এখন ১৭ই ফেব্রুয়ারির ডেডলাইনের মধ্যে রাজ্য সরকার সুর নরম করে FIR করে কি না, সেটাই দেখার।