মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার মায়াপুর সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এই সফর ঘিরে সকাল থেকেই মায়াপুর ইস্কন মন্দির চত্বরে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তবে ইস্কন প্রাঙ্গণে এদিন কেবলই শোনা গেল ভক্তদের উল্লাস আর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ।
মন্দিরে পৌঁছাতেই ইসকনের সন্ন্যাসীরা তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে এবং বৈদিক রীতি মেনে স্বাগত জানান। মন্দির চত্বরে পা রেখেই শুভেন্দু অধিকারী সোজা চলে যান রাধামাধবের দর্শনে। মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে তিনি বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। এর পরেই ছিল বিশেষ যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন। বৈদিক নিয়ম ও শাস্ত্রীয় বিধান মেনে যজ্ঞকুণ্ডের সামনে বসে তিনি পূজার্চনা করেন। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। তাঁর এই ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার দৃশ্য দেখে ভক্তদের মধ্যে চরম উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নিরাপত্তার বেষ্টনী থাকলেও সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় তাঁকে।
যজ্ঞের পর তাঁর সফরের মূল আকর্ষণ ছিল গোশালা পরিদর্শন। হিন্দু ধর্মে ‘গো-মাতা’র প্রতি যে অসীম শ্রদ্ধার বার্তা রয়েছে, সেই ভাবধারাকেই এদিন সামনে তুলে ধরেন শুভেন্দু। গোশালায় প্রবেশ করে তিনি নিজ হাতে গরুদের খাওয়ান। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় যেন এক নতুন আবেশ তৈরি হয় সেখানে। বিশেষ ফল, টাটকা ঘাস ও পুষ্টিকর পশুখাদ্যের আয়োজন করা হয়েছিল গরুদের জন্য। যখন তিনি গরুদের সেবা করছিলেন, তখন উপস্থিত ভক্তদের কণ্ঠে ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। গো-সেবার নানা দিক সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন স্বয়ং ইসকনের সন্ন্যাসীরা।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন ইস্কনের শীর্ষ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে মন্দিরের সামাজিক উদ্যোগ, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং মায়াপুরের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মায়াপুর যেহেতু একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ধর্মীয় কেন্দ্র, তাই এখানে ভক্তদের যাতায়াত, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়েও কথা হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে ধর্মীয় মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীর এই সরব উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এই সফর কেবল একটি ব্যক্তিগত ভক্তি নিবেদন নয়, বরং আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন তুঙ্গে জল্পনা। দিনভর তাঁর এই সফরের প্রতিটি খুঁটিনাটি মুহূর্তে ছিল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কড়া নজর। সব মিলিয়ে মায়াপুরের ধর্মীয় আবহকে কেন্দ্র করে এদিন তৈরি হলো এক নতুন রাজনৈতিক আখ্যান।





