রাজ্যের মিড ডে মিল প্রকল্প নিয়ে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ। বিগত সরকারের আমলে মিড ডে মিলের বরাদ্দ ডিম নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, পড়ুয়াদের পাতে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়ার পরিবর্তে একশ্রেণির অসাধু চক্র কোটি কোটি টাকার ডিম চুরি করেছে।
সূত্রের খবর, একটি বিশেষ তদন্তে দেখা গেছে, স্কুলের মিড ডে মিলের জন্য যে পরিমাণ ডিমের বরাদ্দ ছিল, তার একটি বিশাল অংশ কখনোই পৌঁছায়নি স্কুলগুলিতে। হিসাবের গরমিল করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু ডিম নয়, মিড ডে মিলের রান্নার সামগ্রী কেনা এবং সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে আসছে।
অভিযোগের মূল জায়গাগুলো:
কাগজে-কলমে হিসাব: রেজিস্টার খাতায় ডিমের সংখ্যা দেখানো হলেও, বাস্তবের সাথে তার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সাপ্লাই চেইন জালিয়াতি: যে সংস্থাগুলিকে ডিম সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের বিল এবং প্রকৃত সরবরাহের মধ্যে বিশাল পার্থক্যের প্রমাণ মিলছে।
পড়ুয়াদের বঞ্চিত করা: সরকারি অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও পড়ুয়াদের তালিকায় নাম থাকলেও তারা নিয়মিত পুষ্টিকর ডিম পাচ্ছিল না, যার ফলে সামগ্রিক পুষ্টির হার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিগত সরকারের আমলে এই ধরণের বড় আর্থিক দুর্নীতি কীভাবে দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী মহল। তদন্তকারী সংস্থাগুলি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে খবর।
মিড ডে মিলের মতো একটি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে এই ধরণের জালিয়াতি সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে প্রশাসন। এই ঘটনার সাথে কারা সরাসরি যুক্ত এবং কীভাবে এই দুর্নীতি চলল, তা নিয়ে এখন বড়সড় তদন্তের ইঙ্গিত মিলছে।





