বাংলাদেশ বিচার বিভাগ পৃথক্করণ মামলার সেই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। বুধবার বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাঁর সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও বার কাউন্সিলের পদক্ষেপ:
গত ১২ এপ্রিল একটি দৈনিক পত্রিকায় মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে পেশাগত অনৈতিকতা ও দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে এলে তারা তদন্ত শুরু করে। কাউন্সিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে এবং আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় তাঁর সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
কে এই মাসদার হোসেন?
মাসদার হোসেন একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ। ১৯৯৫ সালে তিনি বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব থাকাকালীন নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্করণের ঐতিহাসিক মামলাটি করেছিলেন, যা আইনি অঙ্গনে ‘মাসদার হোসেন মামলা’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মাসদার হোসেনের প্রতিক্রিয়া:
সনদ স্থগিতের বিষয়ে এক লিখিত বক্তব্যে মাসদার হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।” বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তে দেশের আইনি ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।





