মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে সরকারি অফিসের অন্দরে ধর্মীয় কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিতর্ক। মালেগাঁও মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের (MMC) বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসে কয়েকজন কর্মীর নামাজ পড়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে হিন্দু সংগঠনগুলো অফিসের ভেতরেই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান চালিয়ে হনুমান চালিসা পাঠ করে, যা রাজ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগে একটি মিটিং চলাকালীন নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন অংশগ্রহণকারী অফিস কক্ষেই জামাতে নামাজ আদায় করেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া সরব হন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে চিঠি লিখে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানান। বিজেপি বিধায়ক নীতেশ রানে গর্জে উঠে বলেন, “এটি হিন্দু রাষ্ট্র, এখানে এমন কাজ বরদাস্ত করা হবে না।”
পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা বিদ্যুৎ অধীক্ষকের দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে সজোরে হনুমান চালিসা পাঠ করেন এবং ‘শুদ্ধি’র নামে গঙ্গাজল ছিটান। এই ঘটনায় মালেগাঁওয়ের সংবেদনশীল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারি অফিসে নামাজ পড়া ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, মিটিংয়ের ফাঁকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা সেখানে প্রার্থনা করেছিলেন। প্রশাসন বর্তমানে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে যাতে সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টকে কেন্দ্র করে কোনো বড়সড় অশান্তি না ছড়ায়।