কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি অদূর ভবিষ্যতে মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে? বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি এবং টেসলা-র সিইও ইলন মাস্ক অন্তত তেমনটাই বিশ্বাস করেন। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে আদালতের ভেতরে দাঁড়িয়ে এআই-এর ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্ববাসীকে আবারও চরম সতর্কবার্তা দিলেন তিনি। মাস্কের দাবি, আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে এই প্রযুক্তি মানুষের অস্তিত্ব মুছে ফেলার ক্ষমতা রাখে।
আদালতে মাস্ক বনাম ওপেন-এআই:
মজার বিষয় হলো, মাস্ক এই সতর্কবার্তা কোনো বিজ্ঞান সম্মেলনে নয়, বরং সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে ওপেন-এআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে মাস্কের এক আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। মাস্ক অভিযোগ করেছেন যে, তিনি যে লক্ষ্য নিয়ে ওপেন-এআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা থেকে সংস্থাটি সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে। তাঁর মতে, একদা “মানবতার কল্যাণে” কাজ করার শপথ নেওয়া এই অলাভজনক সংস্থাটি এখন মাইক্রোসফটের হাতের পুতুল হয়ে নিছক একটি মুনাফা তৈরির যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
ল্যারি পেজের সঙ্গে সেই বিতর্ক:
আদালতে মাস্ক তাঁর দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে ২০১৫ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেই সময় গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সঙ্গে তাঁর এআই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। মাস্কের দাবি, ল্যারি পেজ এআই-কে একটি “ইউটোপিয়া” বা স্বর্গীয় জগৎ তৈরির কারিগর মনে করতেন এবং যারা এর বিরোধিতা করত, তাঁদের উপহাস করতেন। অন্যদিকে, মাস্ক তখনই আশঙ্কা করেছিলেন যে, নিয়ন্ত্রণহীন এআই পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।
হলিউড সিনেমার উদাহরণ ও মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গি:
ভবিষ্যতের রূপরেখা বোঝাতে গিয়ে মাস্ক দুটি বিখ্যাত হলিউড চলচ্চিত্রের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “আমরা ‘টার্মিনেটর’-এর মতো ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যৎ চাই না, যেখানে যন্ত্র মানুষকে মারবে। আমরা চাই ‘স্টার ট্রেক’-এর মতো একটি আশাবাদী পৃথিবী।” মাস্কের সতর্কবাণী অনুযায়ী, সেই দিন খুব বেশি দূরে নেই যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সাধারণ বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোবে, মানব সভ্যতার ওপর হুমকির মেঘ তত ঘনীভূত হবে।
বিশ্বের নজর মামলার রায়ে:
ওপেন-এআই-এর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াই এখন বিশ্বজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এটি কেবল অর্থ বা চুক্তি ভঙ্গের মামলা নয়, বরং মানুষের তৈরি যন্ত্রই একদিন মানুষের ওপর রাজত্ব করবে কি না—সেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মাস্কের অভিযোগ, ওপেন-এআই তাঁদের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই জটিল বিতর্কে কী রায় দেয়। এআই কি সত্যিই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আনবে, না কি মাস্কের আশঙ্কাই সত্যি হবে? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।





