২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই এবার আমজনতার হেঁশেলের ইস্যুকে হাতিয়ার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিলোত্তমার রাজপথে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিলে পা মিলিয়ে সরাসরি বিজেপি সরকারকে বয়কটের ডাক দিলেন তিনি। কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল রান্নার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকট। ডোরিনা ক্রসিংয়ের জনসভা থেকে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “মানুষকে গ্যাস দিন, গ্যাস বেলুন নয়!”
কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ ও নোটবন্দির স্মৃতি: মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার নির্বাচনের মুখে চালকি করে গ্যাসের সার্ভার বন্ধ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষের হয়রানি দেখে আবার নোটবন্দির বিভীষিকা মনে পড়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই তিনি গ্যাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং জানতে পেরেছেন যে রাজ্যে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ রয়েছে। কেন্দ্রের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নীতিই সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করছে।
বিজেপি-কে কড়া বার্তা: কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের সময় ব্রিগেড ভরাতে টাকা বিলিয়ে লাভ নেই। সেই টাকা গ্যাসের ভতুর্কি হিসেবে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হোক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আগে মানুষকে গ্যাস দিন, তারপর ভোট চাইতে আসুন।” গ্রামের গরিব মানুষের রান্নার সুবিধার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কেরোসিনের কোটা বাড়ানোর পদক্ষেপ করেছে বলেও তিনি জানান।
ভোটের আগে রণকৌশল: এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (SIR) এবং চার বছর ধরে রাজ্যের পাওনা টাকা আটকে রাখার অভিযোগে সরব হন। তাঁর দাবি, “দেশটাকে কি মগের মুলুক ভাবছেন? যতই হামলা করো, জিতবে আবার বাংলা।” আসন্ন নির্বাচনে বাংলার মানুষকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। মিছিলের বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ভোটের ময়দানে ‘গ্যাস সংকট’ এবার অন্যতম বড় ইস্যু হতে চলেছে।