রাজ্য সরকারের নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘যুবসাথী’ ঘিরে বাংলাজুড়ে অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মাত্র ৯ দিনেই জমা পড়েছে প্রায় ৭৬ লক্ষ ৭৭ হাজার আবেদন। আজ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল আবেদনের নির্ধারিত শেষ দিন। তবে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর ভিড় দেখে সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে এই প্রকল্প। ‘যুবসাথী’র আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত আর্থিক ভাতা পাবেন। তবে এই আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যাঁরা ইতিপূর্বেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবশ্রী’র মতো সামাজিক ভাতা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে পড়ুয়ারা তাঁদের স্কলারশিপের পাশাপাশি এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলাভিত্তিক আবেদনের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এর পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা। অনলাইন পোর্টাল এবং ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরের মাধ্যমে একযোগে চলছে আবেদন গ্রহণ। একইসঙ্গে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অনুদান বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই প্রকল্পেও নতুন করে আবেদনের ঢল নেমেছে। তরুণ প্রজন্মের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই মেগা প্রকল্প বলে দাবি সরকারি মহলের।