ভোট-পরবর্তী বাংলায় অশান্তির আগুনে নতুন ঘি ঢালল এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোলতলা সংলগ্ন দোহারিয়া এলাকায় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। প্রাক্তন এই বায়ুসেনা কর্মীর মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে নিজের গাড়িতে করে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ বাবু। অভিযোগ, চারটি মোটরবাইকে আসা আটজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির পিছু নেয়। দোহারিয়ার একটি নির্জন বাইপাস রোডে পৌঁছতেই একটি ছোট চারচাকা গাড়ি আচমকা চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে এসে রাস্তা আটকে দেয়। গাড়িটি থামা মাত্রই বাইক আরোহীরা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁঝরা হয়ে যায় চন্দ্রনাথের গাড়ি। গুলিতে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ ও তাঁর সঙ্গী বুদ্ধদেব বেরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেবের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (সিআইডি) ও বিশেষ তদন্তকারী দল (সিআইটি) দ্রুত তদন্তভার গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা গাড়ির দরজা, কাচ এবং ভেতর থেকে বুলেটের খোল ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটি আসলে একটি চুরির গাড়ি। সম্ভবত খুনের পর চিহ্ন মুছতেই সেটিকে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল। এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাস্টারমাইন্ডের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
বিরোধী দলনেতার আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনায় স্বভাবতই রাজ্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড কি নিছকই অপরাধমূলক কাজ নাকি এর পিছনে কোনও গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।





