উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপ। রবিবার গভীর রাতে সাগরের মুড়িগঙ্গা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, ব্যাপক লুঠপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাতভর থমথমে হয়ে রয়েছে গোটা এলাকা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় এলাকায় বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিজয়া সম্মিলনী ও মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, মিছিলটি যখন কোম্পানি ছাড়া এলাকার ২৫ নম্বর বুথের কাছে পৌঁছায়, তখনই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। তৃণমূলের দাবি, মিছিলের মাঝখান থেকেই একদল উন্মত্ত বিজেপি কর্মী আচমকা স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতি কবাক শেখের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ আরও ভয়াবহ— দুষ্কৃতীরা প্রথমে বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় যাতে অন্ধকারে তান্ডব চালানো সহজ হয়। এরপর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা স্রেফ ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি, আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, সোনার গয়না এবং মূল্যবান নথিপত্র লুঠ করে নিয়ে গেছে। সবশেষে বাড়ির একাংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। ঘটনার সময় বুথ সভাপতি বাড়িতে না থাকলেও তাঁর স্ত্রী ও পরিজনরা ভেতরেই আটকে ছিলেন। খবর পেয়ে সাগর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
তৃণমূল সমর্থক সাবিনা বিবি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “বিজেপির মিছিল যাওয়ার পরেই ওরা বাড়িতে ঢোকে। আমাদের চূড়ান্ত ভয় দেখানো হয়। গয়না-টাকা সব নিয়ে গেছে। এমনকি আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য।” তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকা দখল ও সংখ্যালঘু মনে ত্রাস সৃষ্টি করতেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
পাল্টা যুক্তি দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। স্থানীয় বিজেপি নেতা চঞ্চল পান্ডার দাবি, “বিজেপির মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ। মিছিল শেষ হওয়ার পর তৃণমূলের নিজেদের লোকরাই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমাদের বদনাম করতেই এই নোংরা চক্রান্ত।” তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে সাগর থানার পুলিশ।





