মাঝ আকাশে বড়সড় বিপদের মুখে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের (Air India Express) একটি যাত্রীবাহী বিমান। বুধবার দিল্লি থেকে ভুবনেশ্বরগামী ওই বিমানে মাঝ আকাশেই দেখা দেয় জ্বালানি ঘাটতি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে পাইলট তড়িঘড়ি বিমানটিকে রাজস্থানের জয়পুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। এই ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক কী ঘটেছিল? বুধবার সকালে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের IX-1057 বিমানটি ভুবনেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আকাশপথে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ককপিটে জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা ফুটে ওঠে। পাইলট লক্ষ্য করেন, বিমানের জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।
তড়িঘড়ি অবতরণ: বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়াতে পাইলট সঙ্গে সঙ্গে জয়পুর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জরুরি ভিত্তিতে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর দক্ষ হাতে বিমানটিকে জয়পুর বিমানবন্দরে নামিয়ে আনেন তিনি। বিমানে থাকা কয়েকশ যাত্রী বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের নেপথ্যে কী কারণ? প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর তীব্র দামবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির জেরে এয়ারলাইনগুলি কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। তবে এই বিমানে জ্বালানি কম থাকাটা যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি হিসেবের ভুল, তা খতিয়ে দেখছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)।
যাত্রীদের অবস্থা: আচমকা এই অবতরণে যাত্রীদের মধ্যে হুলুস্থুল পড়ে যায়। জয়পুর বিমানবন্দরে নামার পর দীর্ঘক্ষণ তাঁদের বিমানের ভেতর বসিয়ে রাখা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, রানওয়েতে নামার পর তাঁদের ঠিকমতো তথ্য দেওয়া হয়নি। যদিও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তার খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যাত্রীদের বিকল্প বিমানে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ভারতের আকাশপথে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি বিমানে যান্ত্রিক ও জ্বালানি সংক্রান্ত গোলযোগ দেখা দেওয়ায় উড়ান নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





