মাছ মানেই বাঙালির আবেগ, আর সেই আবেগকে কাজে লাগিয়েই জনসচেতনতা বাড়াতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল রাজ্য মৎস্য দফতর। সাধারণ মানুষের মধ্যে মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং হারিয়ে যাওয়া সাবেকি মাছের পদের সঙ্গে পরিচয় করাতে এক বর্ণাঢ্য রান্নার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কয়েকশো প্রতিযোগী তাঁদের নিজস্ব কায়দায় তৈরি মাছের নানা সুস্বাদু পদ নিয়ে হাজির হন।
এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চমক ছিল ‘লোকাল ভ্যারাইটি’ বা দেশি মাছের ব্যবহার। শুধুমাত্র নামী দামী মাছ নয়, বরং চুনো মাছ, মৌরলা, পুঁটি বা খলশে মাছের মতো ছোট মাছ যে শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা প্রতিযোগীদের পদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিচারকদের আসনে ছিলেন শহরের বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পীরা। রান্নার স্বাদ, পরিবেশনা এবং তার পুষ্টিমূল্য— এই তিন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।
মৎস্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, “আজকাল অনেকেই প্যাকেটজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে মাছে থাকা প্রাকৃতিক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চেয়েছি যে কম খরচেই দেশি মাছ দিয়ে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা সম্ভব।” বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং মানপত্র। অনুষ্ঠানের শেষে সাধারণ দর্শকদের জন্য ছিল মৎস্য দফতরের তৈরি নানা আধুনিক মৎস্যজাত দ্রব্যের প্রদর্শন ও চেখে দেখার সুযোগ।