২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সিপিএম কর্মী খুনের ঘটনায় কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন মহম্মদ সেলিম। মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিজেপি-তৃণমূল— সকলকেই একহাত নিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক।
“বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো”: কমিশনকে তোপ সিপিএম কর্মী নুর এ আজমের খুনের ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন সেলিম। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন মুখে বড় বড় কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সেলিমের কটাক্ষ, “এত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কী লাভ যদি ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কর্মীদের খুন করা হয়? এটা তো বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো!” তাঁর প্রশ্ন, মণিপুর বা কাশ্মীরের চেয়েও বেশি বাহিনী মোতায়েন করার পরেও কেন রক্ত ঝরছে বাংলায়?
হেলিকপ্টারে কালো টাকা? এদিন শুধু নিরাপত্তা নয়, ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং কালো টাকা নিয়েও সরব হন সেলিম। তিনি অভিযোগ তোলেন, “রাস্তায় সাধারণ মানুষের গাড়ি তল্লাশি করে লোক দেখানো হচ্ছে। অথচ ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারে করে যে কালো টাকা যাতায়াত করছে, তার খোঁজ কে রাখছে?” সরাসরি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন এই বাম নেতা।
অমিত শাহকে ‘মাছ’ চ্যালেঞ্জ! আক্রমণের তির থেকে বাদ যাননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতির কড়া সমালোচনা করে সেলিম বলেন, “আমি কী খাব সেটা আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। ক্ষমতা থাকলে ভোটের বাজারে একদিন মাছ বা চিংড়ি নিয়ে ঘুরুন দেখি!” তৃণমূলকে ‘বিজেপি-আরএসএস’-এর স্পেশাল ভেহিকল হিসেবেও দেগে দেন তিনি।
মানুষের ওপর আস্থা নেই কেন? শীতলকুচি কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সেলিম সাফ জানান, শুধু মিলিটারি বা বন্দুক দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না। মানুষের ওপর ভরসা হারানোই আজ বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় ট্র্যাজেডি। ভোটের মুখে সেলিমের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং ‘হেলিকপ্টার তত্ত্বে’ রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।





