রাতের শহরে মহিলারা কতটা নিরাপদ? পুলিশি টহল কি সত্যিই অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে পারছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ড্রয়িং রুমের বৈঠক বা রুটিন টহল নয়, বরং সরাসরি ময়দানে নামলেন মালকাজগিরির নতুন মহিলা পুলিশ কমিশনার বি. সুমথি (B. Sumathi)। মাঝরাতে সাধারণ মহিলার ছদ্মবেশ ধরে তিনি যা দেখলেন এবং করলেন, তা এখন গোটা দেশে চর্চার বিষয়।
হঠাৎ কেন ছদ্মবেশ?
গত ১ মে মালকাজগিরি পুলিশ কমিশনারেটের প্রথম মহিলা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ২০০৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার বি. সুমথি। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি স্থির করেন, রাতের হায়দরাবাদের আসল ছবিটা দেখবেন। সাধারণ শাড়ি ও সাদামাটা পোশাকে (মুফতি) মাঝরাতে একা গিয়ে দাঁড়ান ব্যস্ত দিলসুখনগর বাসস্ট্যান্ডে। তাঁর এই ‘রিয়্যালিটি চেক’ অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘রিয়্যাল মিশন শক্তি’।
১ ঘণ্টায় ৪০ জন গ্রেফতার!
রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টে পর্যন্ত চলে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। কিন্তু অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না। বাসস্ট্যান্ডে একজন মহিলাকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই ভিড় জমায় একদল মদ্যপ ও অসভ্য যুবক। পুলিশ কমিশনারকে সাধারণ মহিলা ভেবে শুরু হয় কুৎসিত মন্তব্য ও অশোভন আচরণ।
তবে অপরাধীরা জানত না, অদূরেই ওত পেতে ছিল পুলিশের একটি বিশেষ টিম। কমিশনারকে উত্ত্যক্ত করা মাত্রই ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৪০ জন অপরাধীকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।
পরিচয় পেতেই চক্ষুচড়কগাছ
যাঁকে একলা পেয়ে ‘ধুরন্ধরগিরি’ দেখাচ্ছিল ধৃতরা, তাঁর আসল পরিচয় যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন অপরাধীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। খোদ পুলিশ কমিশনারকেই উত্ত্যক্ত করার দায়ে শ্রীঘরে যেতে হয় তাঁদের। তবে তৎক্ষণাৎ কঠোর আইনি ব্যবস্থার চেয়েও এই ঘটনায় কাউন্সেলিংয়ের ওপর জোর দিয়েছে পুলিশ। জনসমক্ষে অসভ্যতা এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাড়া হয় অনেককে।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
বি. সুমথি এর আগে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, খোদ কমিশনারকে যদি রাতের শহরে হেনস্থার শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা কোন তলানিতে!
পুলিশ সূত্রের খবর, রুটিন টহলে সবসময় আসল অপরাধীদের দেখা মেলে না। তাই শহরের মহিলাদের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে আগামী দিনেও হায়দরাবাদের বিভিন্ন কোণে এভাবেই ‘ছদ্মবেশী’ অভিযান চালাবে পুলিশ। কমিশনারের এই বার্তা পরিষ্কার—”শহর জেগে আছে, আর অপরাধীদের ওপর নজর রাখছে পুলিশ।”





