আজ মহাকাশে রুদ্রমূর্তি ধারণ করল আমাদের সৌরজগতের প্রাণপুরুষ সূর্য। হঠাৎ করেই সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে আছড়ে পড়ল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ‘এক্স-ক্লাস’ (X-class) সোলার ফ্লেয়ার বা সৌর শিখা। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি সৌর বিস্ফোরণের তালিকায় সবথেকে বিপজ্জনক বিভাগ। আলোর গতিতে ছুটে আসা এই বিকিরণের ঢেউ পৃথিবীর সূর্যালোকিত অংশে এক শক্তিশালী রেডিও ব্ল্যাকআউট বা বেতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
কেন এই মহাজাগতিক তাণ্ডব?
সূর্যের ওপর থাকা ‘সানস্পট’ বা সৌর কলঙ্কগুলোর কাছে যখন জটিল চৌম্বক ক্ষেত্রগুলো ছিঁড়ে যায়, তখনই এই অকল্পনীয় শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটে। শক্তি অনুযায়ী সৌর শিখাকে এ, বি, সি, এম এবং এক্স—এই পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ‘এক্স’ শ্রেণিটি হলো সবথেকে শক্তিশালী। আজকের এই বিস্ফোরণের ফলে প্রচুর পরিমাণে এক্স-রে এবং অতিবেগুনি বিকিরণ মাত্র আট মিনিটের মাথায় পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব:
আমাদের বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তর ‘আয়োনোস্ফিয়ার’-এ এই বিকিরণ আঘাত হানায় শর্টওয়েভ রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাইলট, নাবিক এবং জরুরি পরিষেবাগুলো যে উচ্চ-কম্পাঙ্কের তরঙ্গের ওপর নির্ভর করে কাজ করে, তা এই শিখার প্রভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে সিগন্যাল ফিরে না এসে ওই স্তরেই আটকে যাচ্ছে, যা তৈরি করছে ব্ল্যাকআউট।
আসছে কি আরও বড় বিপদ?
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই শিখা থেকে যদি ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) বা চুম্বকীয় প্লাজমার বিশাল বুদবুদ তৈরি হয়, তবে আগামী ১-৩ দিনের মধ্যে পৃথিবীতে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় হতে পারে। এটি আমাদের স্যাটেলাইট, জিপিএস সিস্টেম এবং ইলেকট্রিক গ্রিডকেও তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।





