শিক্ষক নিয়োগ থেকে রেশন—একের পর এক কেলেঙ্কারিতে বিদ্ধ রাজ্য সরকার। এর মধ্যেই বোমা ফাটালেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের আরও একটি বড়সড় কেলেঙ্কারি ফাঁস হতে চলেছে। আর সেই দুর্নীতি সামনে এলেই টানা ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করার ডাক দিয়েছেন তিনি।
রাজন্যাদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় হুঁশিয়ারি
রবিবার তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসা ছাত্রনেত্রী রাজন্যা হালদার ও শুভঙ্কর হালদারের এক সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি সাফ জানান, এই সরকার আর বেশি দিন নেই। তিনি বলেন:
“কিছু কেলেঙ্কারি খুব শীঘ্রই ফাঁস হবে। তখন টানা ৭২ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গ অচল করে দেওয়া উচিত। যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন এবং রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে, ততক্ষণ বিক্ষোভ চলা উচিত।”
বেকারদের নিয়ে নবান্ন অভিযানের ডাক
এদিনের কর্মসূচিতে রাজন্যা ও শুভঙ্কর ঘোষণা করেন, রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে তাঁরা বড় আন্দোলনে নামছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্র শিবির করে বেকারদের মার্কশিট সংগ্রহ করা হবে এবং সেই কপি নিয়ে সরাসরি নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাকরির দাবি জানানো হবে। এই আন্দোলনকে নিজের ব্যক্তিগত ‘নৈতিক সমর্থন’ জানিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর এই সমর্থনের সঙ্গে বিজেপি দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
মমতার পদত্যাগ চান আরজি করের বাবা-মা
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরজি কর কাণ্ডে নিহত নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরাও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, “দুর্নীতি দমন করা আমার মেয়ের বিচারের একটি অঙ্গ। দুর্নীতি শেষ না হলে ১০-১৫ জনের ফাঁসি হলেও আমরা শান্তি পাব না। এই সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত।”
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কোন কেলেঙ্কারির কথা তিনি বলছেন? নাকি ফের আদালতের পথে হাঁটতে চলেছেন তিনি? সেই উত্তর পেতে এখন কয়েক দিনের অপেক্ষা।